কেউ কি কখনো মনে করে কিংবা মনে রাখে পড়াশোনার বাইরে স্কুল গণ্ডীর ভিতরেও অনেক অনেক সমান্তরাল জীবন আছে/ছিল? সত্যি আমাদের ছিল। কখনো প্রেমঘটিত সে জীবন কখনো বন্ধুত্ত্বময় কখনো বা শত্রুতায় ভরপুর তিক্ত দিনযাপন তা কখনো প্রকট তথা প্রকাশ্যে আবার কখনো তা প্রচ্ছন্ন।
এইতো সেদিন কাউকে বলতে শুনেছিলাম (প্রেম প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে মুখের সামনে না বলে দেওয়ায়) "একমাস ইউজ করে দেখো, যদি ভালো না লাগে তো ছেড়ে দিও - তাতে তো অসুবিধা নেই, তাই না?" অগত্যা রাজি হল। সেই প্রেম টিকলো দুই মাস। আবার নতুন একটা মেয়ের প্রেমে পড়লো সেই ছেলেটা আর মেয়েটাও নতুন ছেলে খুঁজে নিলো। এগুলোকে ঠিক কী বলবো? অল্পবয়সের প্রেমাঙ্কুর নাকি ইনফ্যাচুয়েশান নাকি রূপমোহের জগতে প্রবেশের ছাড়পত্র? এতো গেলো প্রেমের ভাবনাময় কিছু কিছু রিমার্কেবল মাইলস্টোন স্পীচ।
কখনো কাউকে বলতে শোনা গিয়েছিলো - "দেখ আজ কিন্তু আমি তোর ভরসায় স্কুলে এসেছি, তুই অঙ্কগুলো করে না দিলে আমি আজ শেষ।" না বলে একই কাজের অর্ডার কাম রিকোয়েস্ট নিয়ে লাইন পড়ে যেতো কোনো কোনো দিন। কেউ দিচ্ছে ফাঁকি আর কেউ পরল ফাঁকে।
কিংবা দিনের পর দিন কেউ কাউকে ঠকিয়ে যাচ্ছে, কেউ ঠকে যাচ্ছে জেনে কিংবা না জেনে। জেনে হলে মুখে দেখা যায় কোইন্ডেক্সড মিষ্টি হাসি আর না জেনে হলে একজনের ভরসাপূর্ণ মুচকি হাসি আর অপরজনের মুখে 'সাতের' হাসি কিন্তু মিষ্টি খোলশের আড়ালে। ঠিক যেন মিছরির ছুরি অথবা ভিজে বেড়াল।
কেউ কাউকে হেল্প করতো সকলের অন্তরালে আবার কেউ করতো তা প্রকাশ্যে। তবে সবথেকে অন্তরালের সেই সাহায্য যখন আর কেউ কেউ অন্তর্যামীর মত মেপে ফেলে (ফ্যালে) তখন তাদের মুখে যে প্রসন্ন ভাব দেখা যায় তা ঠিক কেমন বলে বোঝানো বেশ কঠিন।
একদিন ক্লাসে বোর্ডে মাস্টার অঙ্ক কষছে, ছাত্রদের মধ্যে থেকে কেউ একজন মেউ ডাকল একবার, মাস্টার একবার ঘুরে দেখল - বুঝতে অনুমান করলো কে আওয়াজ দিলো - বুঝল না, ছাত্রটা মজা পেয়ে মাস্টার ঘুরতেই আরেকবার আ--রেক--টু জোরে ডেকে উঠলো - মাস্টার গেলো খেপে। বলে উঠলেন "এই! কে রে? চড়ুই পাখির ডাক ডাকলি?" ক্লাসের বদমায়েসিতে সেরা বাচ্চাটাই শিকার হল সেই ক্ষোভের। সেই বাচ্চাটা যে ডেকেছিল তার দিকে একবার করুণ নয়নে তাকিয়ে 'রেহা' করে দিয়ে তার পরিবর্তে মার হজম করলো নিঃশব্দে। ফিজিক্সের পাস দেওয়া মাস্টার ক্লাসে অঙ্ক করাতে এলে ছাত্রদের খারাপ না লাগলেও মাস্টারের মনের গহীনে ছোট্ট খারাপ লাগা থেকেই যায়। আর সেই খারাপ লাগাটা মনের ভিতরেই দাবিয়ে রাখতে রাখতে ফিজিক্সের শব্দ আইডেন্টিফিকেশন গুলিয়ে যায় - এটা যদিও একটা পসিবল ওয়ার্ল্ড সেমান্টিক্সের অংশ - একটা এজাম্পশান মাত্র।
চা আনার লভ্যাংশ
আমরা তখন সবে পড়াশুনো শুরু করেছি। গ্রামের মাস্টারমশাইয়ের কাছে পড়ি। সেখানে একসাথে একান্নবর্তী পরিবারের মতই প্রায় ৩০ জন পড়ত। সকালবেলায় আমাদের পড়ার সময়। মাস্টার বাড়িতে চা খেয়ে আমাদের বাড়ি হয়ে ক্লাব-এ পড়াতে যেত। পড়ানোর আগে আমাদের বাড়ি আসত চা খেতে। তারপর ৪০/৪৫ মিনিট পড়ানো হলে আমাকে বলতেন, যা, বাড়ি গিয়ে চা আন। পড়ার ক্লাব আর বাড়ির দূরত্ব আট মিনিটের হাঁটা পথ। যে চা আনতে যেত সে এক কাপ করে চা পেত। এটা তার লভ্যাংশ। যেদিন আমি আনতে যেতাম, বাড়ি গিয়ে চা তো পেতামই আর পেতাম জলখাবার। সেসব খেয়ে আবার ক্লাব-এ পৌঁছতে প্রায় ৩০ মিনিট লেগে যেত। পড়া শেষ হলে মাস্টার আবার আমাদের বাড়ি এসে চা খেত। এরপর মাস্টার যেত ক্লাবে। ক্লাবের পাশেই চায়ের একটা দোকান ছিল। মাস্টার ক্লাবে বসে থাকতো সারাদিন। মাঝে মাঝে পনেরো কুড়ি মিনিট পরপর এককাপ করে চা খায় আর ক্লাবের পাশ দিয়ে কাজে যাওয়া লোকেদের সাথে খোশগল্প করে। আমি তখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। অঙ্কের মাস্টার 'লাভ ক্ষতি'-র অঙ্ক শুরু করার আগে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, বলত, লভ্যাংশ কাকে বলে? আমি তখন শুরু থেকে বললাম...। শেষে "এটা তার লভ্যাংশ" বলে শেষ করলাম। বলা শেষ হতেই ঘণ্টা পরে গেল। ক্লাস শেষ।
বিশ্বাসে মেলায় বস্তু ...
"মুক্ত, চুনি, পান্না
আর নয় কান্না
…...
…... "
এসব বলতে শোনা গেলো একদলের দুই-তিন জনের মুখ থেকে। প্যাসেঞ্জার তখন গলসি স্টেশান পেরিয়ে ছুটে চলেছে আসানসোলের দিকে, গন্তব্য কবিতীর্থ চুরুলিয়া। মুনি, ঋষি, সাধু, জ্যোতিষী এসব ধারণাকে এক লহমায় যেন ডিনামাইট মেরে দিল। চোখের সামনে থাকা ভণ্ডের দল লোকঠকিয়ে করা ব্যবসার এহেন দর্শন এককথায় যাস্ট অনবদ্য। এক দুটো স্টেশান যায় আর এক-দুজন করে ওদের দলে ভারী হতে থাকে। মুখে পানের লাল রং ট্রেনের বাইরে অর্ধেক আর ভেতরে অর্ধেক যখন তখন সাদা ক্যানভাসে রক্তিম ছিটেফোঁটার সংখ্যা মতই ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে। আর প্যাসেঞ্জারের এক-দুজন মনের কোণে থাকা লুক্কায়িত ইচ্ছের পুর্তি উপলক্ষে এক-দুকথা জিজ্ঞেস করছে। যত না বুঝছে তার থেকে বেশি ঠকে যাচ্ছে, বুঝেও বুঝছে না। যাইহোক আমজনতা এভাবেই বিশ্বাস করে চলেছে ভেকধারী পাথর সেলারদের কথার মায়াজালে ধরা খেয়ে। জলবিক্রেতা হকারদের থেকেও ১৫ টাকা লিটার জলের বোতল ৫ টাকায় আদায় করে মহানন্দে জল খাওয়ার চেষ্টা করার সময় আতিথ্যতা বশত আমায় আচমকা জিজ্ঞেস করল জল খাবে নাকি - বোতলটা এগিয়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে মুখে হাসির দীপ্তি ও গদগদ ভাবটা এমন যেন কী মহান সমাজসেবায় ওরা ব্রতী হয়েছে। আমার নঞর্থকতায় বেশ খুশিই হল আর এক নিঃশ্বাসে প্রায় এক তৃতীয়াংশ জল উদরসাৎ করে ফেলল।
'বিশ্বাস' শব্দটার এই অভূতপূর্ব বিপরীতার্থক ব্যবহারের এক আশ্চর্যময় সাক্ষী সেই কামরায় অন্তর্যামীই রইলেন আর মুখ টিপে হাসলেন যা ওদের মুখের হাসির সাথে জল-অচলের বিভাজনরেখাটা সুস্পষ্ট মহিমায় ফুটিয়ে তুললেন অদৃশ্য রঙের কাল্পনিক দৃশ্যমান ক্যানভাসে।
#35
தற்போதைய தரவரிசை
8,160
புள்ளிகள்
Reader Points 8,160
Editor Points : 0
164 வாசகர்கள் இந்தக் கதையை ஆதரித்துள்ளார்கள்
ரேட்டிங்கஸ் & விமர்சனங்கள் 5 (164 ரேட்டிங்க்ஸ்)
Souvik Kansal
It would be glad if you write a review of my book. Book's name is - Taskalalea Can Talk To Animals!!! As well as Animals Can Talk To Him! This book is awesome and well-written. Please write a review of my book.
sutapasai
bahumataroy
Description in detail *
Thank you for taking the time to report this. Our team will review this and contact you if we need more information.
10புள்ளிகள்
20புள்ளிகள்
30புள்ளிகள்
40புள்ளிகள்
50புள்ளிகள்