প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মেই জগৎ সংসারের কালচক্র আবর্তিত হয়, জগতের প্রতিটি প্রাণীর জীবনচক্রও নির্ধারিত। প্রাণ বা প্রাণীর অভিযোজনও প্রকৃতির নিয়ম মেনে, বাস্তুতন্ত্রের সাথে সাযুজ্য রেখে। প্রকৃতিকে অবজ্ঞা করে, বাস্তুতন্ত্রকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কোনো প্রাণ বা প্রাণী বা গোষ্ঠী অভিযোজনের ধাপ ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে জগৎ সংসারে একা হয়ে যেতে হয়। প্রকৃতির অনুশাসনে প্রতিটি প্রাণ বা প্রাণী আবদ্ধ, তার বাইরে যাওয়ার ধৃষ্টতা প্রকৃতির অভিশাপ ডেকে আনে।
নদীর বহমানতা জীবনের সাথে তুল্য। নদী এবং তাকে বেষ্টন করে প্রাণের যে সঞ্চার, প্রাণের বিকাশ, অভিযোজন এবং সর্বোপরি বাস্তুতন্ত্রের যে শৃঙ্খল তা যেন প্রকৃতিরই একটি ছোটো রূপ। জগৎশ্রেষ্ঠ প্রাণ অর্থাৎ মানুষের প্রকৃতিকে ধ্বংস করার অমোঘ আকর্ষণ, বাস্তুতন্ত্রের নিয়মনীতিকে বিসর্জন দিয়ে জগৎসংসারে স্বঘোষিত ঈশ্বর সাজার যে বাসনা, তা তাকে ধ্বংসের দিকেই টেনে নিয়ে চলেছে। সাথে অন্য প্রাণ বা প্রাণীদের অস্তিত্বকেও সংকটে ফেলে দিয়েছে। ধ্বংসের এই কালচক্রকে নিয়ে লেখা মোট বারোটি কবিতা বইটিতে স্থান পেয়েছে।