প্রদীপ কুমার রায় (একজন অনুসন্ধানী মন, সৃষ্টি–সাধনার যাত্রী)
ব্যাংকের ব্যস্ত অফিসঘর, হিসাবের অগণিত সংখ্যা এবং দায়িত্বের ভারে আবদ্ধ একটি দিনমান জীবনের মধ্যেও একজন মানুষ নীরবে বড় হয়ে ওঠেন—প্রদীপ কুমার রায়।
স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার পুরশুরা শাখায় চিফ ম্যানেজার (অফিং) পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের পর অবসর নেন। ব্যাংকিং-এর নানা দায়িত্ব—ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, এইচআর ম্যানেজার, সিস্টেম ম্যানেজার—এই সমস্ত ভূমিকাগুলো যেন তাঁকে শুধু একজন সফল অফিসার নয়, বরং মানুষের জীবন, সম্পর্ক, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বের গভীরতা বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে।
কিন্তু তাঁর আসল পরিচয় কর্মজীবনে নয়—তাঁর অন্তরের অনুসন্ধানে। সংখ্যার জগতের বাইরে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন আরেকটি জগৎ—মায়া, রহস্য, প্রেরণা ও সৃজনশীলতার জগৎ। জাদুবিদ্যার প্রতি গভীর আকর্ষণ এবং লেখালেখির প্রতি অদম্য টান তাঁকে পথ দেখিয়েছিল তাঁর প্রথম বই “প্রেরণা” (২০১৩) রচনার দিকে। সেই থেকে কলমের সঙ্গে তাঁর যাত্রা আর থেমে থাকেনি। দেশের নানান খ্যাতনামা পত্রিকা ও সাময়িকীতে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। জাদুবিদ্যার সূক্ষ্ম তত্ত্বে তাঁর দক্ষতা তাঁকে নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মঞ্চে—যেখানে তিনি স্থান পেয়েছেন Magicians’ World Directory–তে।
একাডেমিক দিক থেকেও তিনি এক উজ্জ্বল আলো। ভৌতবিজ্ঞানে অনার্স-সহ BSc, কম্পিউটার সায়েন্সে MSc, PGDCA, CCNA (Global) এবং CAIIB—জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দক্ষতার বিস্তৃত পরিসর যেন তাঁর জীবনের মধ্যে এক সুন্দর সমন্বয় তৈরি করেছে। এছাড়াও ছবি, ভিডিও, অ্যানিমেশন, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, কোবল প্রোগ্রামিং, IRDAI কোর্স—জ্ঞান অর্জনের পথ তিনি কখনোই বন্ধ করেননি।
অবসরোত্তর জীবনে থেমে না গিয়ে তিনি শুরু করেছেন আরেকটি যাত্রা—জ্ঞান বিতরণের, মানুষকে স্পর্শ করার, এবং নিজের চিন্তা বিশ্বজগতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যাত্রা। এখন তিনি যুক্ত আছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ হিসেবে। পরিচালনা করছেন ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ, ব্লগ এবং ওয়েবসাইট—যেখান থেকে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন পাঠকদের সঙ্গে। আজ পর্যন্ত তিনি রচনা করেছেন ১৪০টিরও বেশি গ্রন্থ—যা দেশ-বিদেশের নানান অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে গেছে অগণিত পাঠকের হাতে, ছড়িয়ে দিয়েছে চিন্তা, জ্ঞান ও প্রেরণার আলোকধারা।
তিনি কেবল একজন লেখক নন—একজন অনুসন্ধানী, একজন স্বপ্নসাধক, একজন ধ্যানমগ্ন যাত্রী, যিনি প্রতিটি বইয়ে ছড়িয়ে দিতে চান তাঁর সামনে খোলা পথের আলো।
প্রকাশক।